নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হকের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়াই সৌদি ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, জনপ্রতিনিধিদের দেশের বাইরে বহির্গমন করতে হলে তাকে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। অথচ এ নির্দেশনা অমান্য করে গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান চেয়ারম্যান জহিরুল হক।
স্থানীয়রা জানায়, ইউপি পরিষদে জন্মনিবন্ধন ও চেয়ায়ম্যান সনদ নিতে এসে চেয়ায়ম্যানকে না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। গুঞ্জন উঠেছে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য বড় অংকের লেনদেনের পায়তারা করছেন জহিরুল হকের ঘনিষ্ঠজনেরা । জহিরুল হক ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্থানীয় সরকার শাখার সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেশের বাইরে ছুটিতে যাওয়ার জন্য সর্বপ্রথম পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে রেজুলেশন করতে হয়। তারপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে হয়। জেলা প্রশাসক এই আবেদনটি বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রেরণ করে থাকেন । কিন্তু এক্ষেত্রে কোন নিয়মে পালন করেননি জহিরুল হক ।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একাধিক মামলার আসামি জহিরুল হক । কয়েকদিন আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই সে দেশের বাইরে চলে গেছে । আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও প্রশাসনের কোন নিয়ম নীতিকে তিনি তোয়াক্কা করেন না ।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অভিযুক্ত জহিরুল হক চেয়ারম্যানের আপন বোন জামাই মহসিন কবির সরকার আমার দেশকে জানান, চেয়ারম্যানসহ আমার বোন এক জায়গায় আছে এটা বলা যাবে না ।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, আমি দুইদিন হল এখানে যোগদান করেছি । এসেই ওনার মোবাইলে ফোন করেছি । উনার মোবাইল বন্ধ । উনি কোথায় আছে এটা আমি জানি না।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী মো. শাহ আলম জানান, কিছুদিন আগে উনি আমাকে বলেছেন উনি অসুস্থ । তারপর থেকে মোবাইল বন্ধ । কোথায় আছেন এটা আমি বলতে পারছি না ।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই জহিরুল ইসলাম তার দায়িত্বে অবহেলা করে যাচ্ছেন। অনিয়ম করে পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। পরিষদের আনসারের মাধ্যমে জন্ম সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমিয়ে গোপন জায়গায় স্বাক্ষর করে পরিষদে পাঠান । সরাসরি উনার কাছ থেকে মানুষ সেবা নিতে পারছে না । কয়েকদিন ধরে উনাকে দেখা যাচ্ছে না পরিষদে ।
এ বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি ।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছুটি না নিয়ে দেশের বাইরে যেতে পারেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হকের বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখব । উনি নিয়ম মেনে দেশের বাইরে গিয়েছেন কিনা। যদি নিয়ম না মেনে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে